Header Ads Widget

Responsive Advertisement

বন্ধুদের গার্লফ্রেন্ড আছে, তোমার নেই।


 বন্ধুদের গার্লফ্রেন্ড আছে, তোমার নেই। বন্ধুরা ভ্যালেন্টাইনে অনেক মজা করছে। তুমি পারছ না। এরকম আরও অনেক কারণে তোমার মধ্যে না পাওয়ার কষ্ট জমে। তোমার মন খারাপ হয়। তোমার অভিমান হয়। এসো ভাইয়া, তোমাকে দুটি গল্প শোনায়…

আফগানের এক তরুণী রাস্তার পাশে অস্থায়ীভাবে বানানো ঘরের কাছে চুলা পেতে রান্না করছিলেন। তরুণীটির পাশে ছোট্ট একটা কাপড়ে কি যেন মোড়ানো ছিল। এক সাংবাদিক সেই কাপড়ের কাছে যাওয়াতে বাঘিনীর মতো গর্জে উঠলেন সেই তরুণী। স্থানীয় লোকজন জানালো- এই আমেরিকার বোম্বিং এর ফলে এই তরুণীর পরিবারের সবাই নিহত হয়েছে। বাড়িঘর পুড়ে গিয়েছে। পুড়ে কয়লা হয়ে গিয়েছে স্বামী, সন্তান সবাই। স্বজনদের মৃতদেহের পোড়া ছাই সেই তরুণী বেঁধে রেখেছেন ছোট্ট কাপড়টাতে। এই দুনিয়ায় এটাই তাঁর বেঁচে থাকার অবলম্বন। 

বাশার আল আসাদের বোম্বিং এর ফলে আহত রক্তাক্ত মেয়েকে গাড়িতে করে হাসপাতালে ছুটছেন এক সিরিয়ান বাবা। একটু পর পর মেয়ের সাথে কথা বলছেন- আম্মু, সোনামনি, আমরা চলে এসেছি প্রায় হাসপাতালে, তোমার সব কষ্ট শেষ হবে এবার... যেন মেয়ে জ্ঞান না হারায়। পাগলের মতো ছুটছে গাড়ি। অবশেষে হাসপাতালে পৌছালো ওরা। বাবা মেয়ের দিকে চাইলেন। মেয়ের শরীর ঠান্ডা হয়ে গিয়েছে। মারা গিয়েছে ও। 

আরেক সিরিয়ান বাবা, বুকে করে ছোট্ট দুই সন্তানের লাশ নিয়ে যাচ্ছেন কবরে। আশেপাশের মানুষজন লাশ কবরে শোয়ানোর অনুরোধ করছে, কিন্তু বাবা রাজি হচ্ছেননা। অপলক চোখে তাকিয়ে আছেন তাঁর সন্তানের দিকে। তাঁর কাছে মনে হচ্ছে - বুকের ধন আমার ঘুমিয়ে আছে। একটু পরেই ঘুম ভেঙ্গে বাবা বলে ডেকে উঠবে। গলা জড়িয়ে ধরবে। বাবু দুইটাকে শেষমেষ কবরে শোয়ানো হলো। অসহায় বাবা, সন্তানের কবর জড়িয়ে ধরে অঝোরে কাঁদছিলেন। আশেপাশের কারো চোখই শুকনো ছিলনা। কেউই এগিয়ে আসছিলনা সান্তনা দিতে। সান্তনা দেবার সাহস বা ভাষা কারো জানা নেই। 

দুইটা গল্প শোনাতে গিয়ে তিনটে গল্প শুনিয়ে ফেললাম। আরো কত গল্প আসছে মনের মাঝে। আফিয়া,আসিফা, ফাতিমা, জাবির… কত নাম ঘুরছে মাথার ভেতর। কত ব্যথাতুর চেহারা ভেসে উঠছে চোখের সামনে, কত বিধবা আর অসহায় মা বোনদের কান্নার আওয়াজ শুনতে পাচ্ছি। সিরিয়া, কাশগড়,আরাকান, গু জ রা ট, আ সা ম, কা শ্মী র, ইয়েমেন, ইরাক, বাংলাদেশ রক্তাক্ত কত মুসলিম জনপদ… থাক সেসব কথা। মনের ভেতরেই লুকিয়ে থাক। অপ্রিয়, অস্বস্তিকর সব সত্যের সাথে বোঝাপড়া করতে গেলে স্রেফ পাগল হয়ে যেতে হবে।

ভাইয়া দেখতো এতোটা কষ্টের ধারে কাছেও কি তুমি কখনো গিয়েছ? এতোটা কষ্টের সম্মুখীন হলে আমরা হয়তো ঈমানই হারিয়ে ফেলতাম।

যখনই তোমার মন খারাপ হবে মুসলিম উম্মাহর এই অসহায় মানুষগুলোর কথা ভাববে। দেখবে অটোমেটিক তোমার মুখ দিয়ে আলহামদুলিল্লাহ্‌ বের হয়ে আসবে। বুঝবে আল্লাহ আমাকে তোমাকে কতটা সুখে রেখেছেন। কতটা রঙ্গিন জীবন পার করছি তুমি,আমি… আমরা সবাই।

Post a Comment

0 Comments

 🔴 শিম্পাজী কখনও কী বিবর্তন প্রক্রিয়ায় মানুষ হতে পারবে ?