ইলুমিনাতি
পর্বঃ ৪
#বেফমেট_কি?
বেফমেট হলো মানুষের দ্বারা তৈরিকৃত মূর্তি। এটা শয়তান এর মূর্তি না, তবে শয়তানকে ইংগিত করে। আজকে আমরা বেফমেট এর মূর্তির অর্থ জানবো।
"হারমিস ট্রিস ম্যজিস্ট্রেস" নামক এক জাদুকর ছিলেন যিনি গ্রিস এ বসবাস করতেন। তার নামের অর্থ হলো "তিন মহৎ গুনাহ বা পাপ"। তিনি কালোজাদু জানতো এবং গ্রিকরা তাকে খোদা মানতো। (নাউজুবিল্লাহ)
মিশরের লোকেরা যেই দেবতাদের পূজা করতো, তাদের মধ্যে একজন কাল্পনিক দেবতা ছিল থোত(Thoth)
গ্রিসের দেবতা "হারমিস" এবং মিশরের দেবতা "থোত" এর মিশ্রনে তৌরী হয়েছে বলে সে নিজেকে পরিচিত করতো।
মিশরীয় রা মনে করতো যে, "থোত" সর্বপ্রথম মানুষকে "এলকমি" ও "এস্ট্রোলজি" বিদ্যা দেয়। ( এলকমি হচ্ছে রসায়ণ বিদ্যার একটি অংশ যা দিয়ে যেকোনো সলিড ধাতুকে তরলে এবং যেকোনো তরল ধাতুকে সলিড ধাতুতে রূপান্তর করা যায়)
মিশরের কিছু পিরামিডে এখন ও থোত এর মূর্তি আছে, যা দেখতে অনেকটা মানুষের মতো কিন্তু মাথা বক এর মতো।
অনেক ব্ল্যাক ম্যাজিশিয়ান রা বেফমেট এর সাথে সাথে থোত এর ও পূজা করে।
তারা বিশ্বাস করে যে "থোত" একটা কালো পাথর এর মধ্যে কিছু গোপন তথ্য লিখেছিল। আর ঐ লেখাগুলোর মধ্যে চারটা এমন শব্দ ছিল যা সব লিখার চাবি ছিল।
শব্দ গুলো হচ্ছে, " As above so below "
যার অর্থ, যেমন উপরে তেমনই নিচে।
আসলে ব্যাফোমেট এর কোনো অস্তিত্বই ছিল না। কিন্তু প্রথম "এল্ফাস লিওয়াই" নামক জাদুঘরে এই চারটা শব্দ থেকে বেফমেট এর মূর্তি বানায়।
তাদের বিশ্বাস এই মূর্তি পৃথিবীর সব কিছুর উপর লাবু হয়।
As above so below মানে তারা মনে করে, যা ভাল তাই খারাপ, যা খারাপ তাই ভালো। যা অন্ধকার তাই আসলে আলো।
তাদের মতে যা খারাপ তাই ভালো, আবার যা ভাল তাই খারাপ।
"Morals and Dogma" একটা বই যেটা লিখেছেন "Albatross pike". সব ফ্রিমেসনদেরই এই বইটা পড়তে হয়। সেখানেও বলা আছে, As above so below
আমরা দেখেছি বেফমেট এর একটি হাত উপরের দিকে ও একটি নিচের দিকে ইশারা করে। এখানে থোত এর "এস্ট্রোলজি" কে ইংগিত করা হচ্ছে।
আমরা জানি এস্ট্রোলজাররা মনে করে, আকাশের তারা ও অন্যান্য নক্ষত্র আমাদের ভাগ্য নির্ধারন করে।
এখান থেকেই আধ্যাত্মিকতা শুরু। তারা এস্ট্রোলজির মাধ্যমে উপরের স্পিরিচুয়াল পাওয়ারের সাথে কমিউনিকেট করে।
সুতরাং বেফোমেট এখানে ইংগিত করছে উপরের লোকেদের দ্বারা নিচের লোকদের নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এখানে স্পিরিচুয়াল পাওয়ার এর কথা বলা হচ্ছে।
আসলে এখানেই শয়তান এর পূজার শুরু। ব্যাফোমেট এর পূজা করলেই শয়তানের পূজা হয় না। ব্যাফোমেট শুধু শয়তানের পূজা করার রাস্তা দেখায়।
বেফোমেট এর ছবিতে সাদা ও কালো রঙ ব্যবহার করা হয় বোঝানোরর জন্য যে, সাদা ও কালো একই।আপনারা একটু ঘাটাঘাটি করলে দেখবেন যে ফ্রিমেশনরা সব যায়গায় এই দুটি রঙ ব্যবহার করে।
এখানে খেয়াল করলে দেখবেন, সব যায়গায় Opposite সাইন শো করছে। বেফোমেট ছবিতে আপনি খেয়াল করে দেখবেন, বেফমেট একই সাথে পুরুষ ও নারী। অর্থাৎ এখানে অপোজিট বলতে কিছুই নাই। সব কিছুই সমান। (আস্তাগফিরুল্লাহ)
এককথায় এখানে বোঝানো হয়েছে, কিছুই খারাপ না। আপনি যা করবেন সবই ভালো সবাই সমান।
ব্যাফোমেট এর ছবিতে খেয়াল করে দেখেন, ডান হাত উপরের দিকে যায়, এবং হাতে লিখা আছে " Solid",“Liquid” এর অর্থ হলো সলিড কে লিকুইড বা তরলে রূপান্তর করা।
বেফোমেট এর ডান হাত নিচের দিকে শো করে এবং সেখানে লিখা " coagula" যার অর্থ লিকুইড কে সলিড এ রূপান্তর করা।
ব্যাফোমেট এর মাথার যে স্টার দেখি আমরা সেটাকে বলে "Power sign" এই সাইন ইসরাইল এর পতাকায় ও আছে।
যেই মশাল আছে ওর মাথার উপর সেটা হলো জ্ঞান এর প্রতিক। আমরা জানি তারা লুসিফার কে জ্ঞান এর দেবতা মনে করে।
Albertsons pike এর Morals and Dogma বই এ বলা আছেঃ
"Lucifer, the lite bearer! strange and mysterious name to give to the spirit of darkness! Lucifer the son of the morning. It is he who bears the light, and with its splendors, intolerable, blinds freeble sensual or selfish souls? Doubt it not"
Bible এর ১৪:১১(Isaiah) বলা আছেঃ
How you fallen from heaven O lucifer, a son of the morning! How you are cut down to ground. You who weakened the nation.
আমি এতো বিজ্ঞ না। তাই ব্যাখ্যা দিতে গেলাম না। আপনারা বুঝে নিন।
লুসিফিয়ানরা লুসিফার কে বাচাতে চায়। তাই তারা পাপের দিক থেকে লুসিফার কেও হারাতে চায়।
তাদের বিশ্বাসে জাহান্নাম তো নাই। who cares?😃🥴
বাইবেলে লুসিফার কে খারাপ বলা হয়েছে। কিন্তু ফ্রিমিশনারি রা মনে করে শয়তান খারাপ না। এটা শুধু মানুষের খারাপ চিন্তা।
তারা মনে করে মানুষ আসলে নিজেই শয়তান।😭
আমেরিকার ওয়ান ডলার এর ছবি আমরা অনেকেই দেখেছি।
আমি নিচে ওয়ান ডলারের কিছু ছবি দিচ্ছি। (মিলিয়ে দেখেন)
ইলুমিনাতি সব সময় ৯/১১ এর মতো কাজ করার আগে কিছু লক্ষণ দেয়। এটা ওদের একটা পলিসি। এর মাধ্যমে নিজেদের আত্মপ্রকাশ করে।
#কিভাবে?
১/ One dollar এর পিছন সাইড এ পিরামিড এর উপরে লিখা আছে, "ANNUIT COEPTIS" অর্থাৎ "আমাদের সফলতা"
#পিরামিড_এর_নিচে_লিখা, "NOVUS ORDO SECLORUM"
NOVUS = New
ORDO = Order
SECLORUM= World
মানে, নিউ ওয়ার্ল্ড ওরডার
অর্থাৎ, এখানে বলা হয়েছে New world order হলো আমাদের সফলতা।
বিঃদ্রঃ one world order কে new world order ও বলা হয়।
২/ ডলারে পিরামিড এর ছবিতে পিরামিড এর ১৩ টা লেয়ার দেখানো হয়েছে। এটা ইহুদিদের ১৩ টা গোষ্ঠী কে নির্দেশ করছে।
৩/পিরামিড এর নিচে লিখা ১৭৬৮। সবাই ভাবে এটা হয়তো এটা আমেরিকা আবিষ্কার হওয়ার সাল। তাই দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এটা দেয়া হয়েছে কারন এটা ইলুমিনাতির প্রতিষ্ঠা সাল।
৪/ পিরামিড এর ডান দিকে একটা চিল এর ছবি আছে। চিলের এক হাতে একটা গাছের ডাল, যেখানে ১৩ টা পাতা এর ১৩ টা ফল এর মতো কিছু আছে। (কি ফল জানি না)
অন্য হাতে ১৩ টা তীর আছে। এবং মাথার উপরেও ১৩ টা তারা আছে। এখানেও ওদের ১৩ টা ব্ল্যাডলাইনকে নির্দেষ দেখাচ্ছে।
৫/ ডলার এর অপর পাশে পাতার পিছনে একটা প্যাঁচা আছে। প্যচা হলো বাহিমিয়ান সোসাইটির প্রতিক।
প্রতি বছরের দ্বিতীয় সপ্তাহে আমেরিকার সব জীবিত প্রেসিডেন্ট, জীবিত জজ, ও অনেক সেলিব্রেটিরা ক্যালিফোর্নিয়ার বাহিমিয়াতে একত্রিত হয়। তারা সেখানে শয়তানের পূজা করে বলে অভিযোগ ও আছে। youtube এ পেতে পারেন।
সেখানে তারা লাল ও কালো রঙের কাপর পরে যায়, এটা ফ্রিম্যাসনের অনেক জায়গাতেই লক্ষ্য করা যায়।
#বিশ্ব_রাজনীতিতে_ইলুমিনাতির_প্রভাবঃ
(বাজেটের হিসাবগুলো ২০১৭/২০১৮ এর বা তার আগের এখনের সাথে নাও মিলতে পারে)
বিশ্ব-রাজনীতিতে আমেরিকা আর রাশিয়া অনেক প্রভাবশালী। দুই দেশই প্রায় সমান প্রভাবশালী, কিন্তু অনেকের মতে আমেরিকা বেশি প্রভাবশালী।
আমেরিকার সব প্রভাব তাদের অস্ত্র আর সামরিক বাহিনীর। তাদের সামরিক খাতে চলতি ৪ বছর এর বাজেট ৫৯৬ বিলিয়ন। পৃথিবীতে এমন বড় সামরিক বাজেট এর নিদর্শন আর নেই।
এখন চিন্তার বিষয় হলো, আমেরিকা কি কারনে এতো বড় বিনিয়োগ করলো? কিন্তু চিন্তার বিষয় হলো, এতো বড় বাজেট কেন?
#যেখানেঃ
২য় স্থানে, চীন - ২১৫ বিলিয়ন
৩য় স্থানে, সৌদি - ৮৭.২ ,,
৪র্থ স্থানে, রাশিয়া - ৬৬.৪ ,,
৫ম স্থানে, ইউ কে - ৫৫.৫ ,,
৬ষ্ঠ স্থানে, ভারত - ৫১.৩ ,,
৭ম স্থানে, ফ্রান্স - ৫০.৯ ,,
৮ম স্থানে, জাপান - ৪০.৯ ,,
৯বম স্থানে, জার্মানি - ৩৯.৪ ,,
________________________________
মোট = ৬০৬.৬ বিলিয়ন
অর্থাৎ, পরবর্তী ৯ টা দেশের সামরিক বাজেট আমেরিকার সমান😱
আমেরিকা এতো বোকা না, যে কোনো কারন ছাড়া লোক দেখানো এতো বড় বাজেট করবে।
আবার ধারনা করা হচ্ছে এই বাজেট আরও অনেক বাড়াবেন।
হয়তো এই বাজেট নিয়ে World War 3 এর জন্যই প্রস্তুতি নিচ্ছে।
WW3 হবে one world order বাস্তবায়ন করার চুড়ান্ত প্রয়োগ।
তাদের পরিকল্পনা হচ্ছে ৩য় বিশ্বযুদ্ধে অন্তত ৫ বিলিয়ন মানুষ মারবে।
#আপনার_কাছে_অসম্ভব_মনে_হচ্ছে?
পারমানবিক বোম বানাতে অনেক টাকা খরচ হয়। তারা এটা জাদুঘরে সাজিয়ে রাখবে না।
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি নিউক্লিয়ার বোম মজুদ আছে রাশিয়ার কাছে (৮৫০০ প্রায়)। দ্বিতীয় স্থানে আমেরিকা(৭৫০০ প্রায়)। প্রকৃত সংখ্যা জানা যায় না।
#মানুষ_মেরে_লাভ_কি?
মানুষ না মারলে তারা পৃথিবী কন্ট্রোল এ নিতে পারবে না। কারন তারা শাসন করতে চায় একদম রুট লেভেল পর্যন্ত। কিন্তু জাতিগতভাবে মুসলিমরা ও আরও কিছু জাতি দাসত্ব স্বীকার করে না। তাই আমরা মরার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাব।
আর ২০০ কোটি মানুষ নিয়ন্ত্রণ করা বেশি সহজ হবে। তাদের ভাষ্যমতে, দূর্যোগ এর পরেই শান্তি আসে। তাই পৃথিবীর জনসংখ্যা কমে গেলে মানুষ সব ধরনের সুযোগ সুবিধা ভোগ করতে পারবে। খাদ্য চাহিদা কমবে, আরও অনেক কিছু। যতসব ভাউতাবাজি।
এতো চিন্তা থাকলে যাকাত বাধ্যতামূলক করুক? ৫ বছর পর পৃথিবীতে গরীব বলতে কিছু থাকবে না।
তার পর পৃথিবীতে থাকবে ২ বিলিয়ন মানুষ, যাদের হবে একই ধর্ম ও জাতীয়ত্ব।
বাস্তবে যতই আমেরিকা আর রাশিয়া শত্রুতার অভিনয় করুক না কেন, আসলে তা না।
সোভিয়েত ইউনিয়ন ভাগ হওয়ার পর, আজ পর্যন্ত আমেরিকা ও রাশিয়ার সম্মুখ যুদ্ধ হয় নাই। যা হয়েছে সব ছুচকামি 😃😑
আমেরিকা আর রাশিয়া, উভয়ে শত্রু সেজে আসলে মুসলমান দের শক্তি কমিয়ে ফেলেছে। তারা মুসলিমদের দুই ভাগে ভাগ করেছে। (সুন্নি -শিয়া)
যেখানে সুন্নিরা যোগ দিয়েছে আমেরিকার সাথে আর শিয়ারা যোগ দিয়েছে রাশিয়ার সাথে।
যারা কারো সাথে যোগ দেয় না, তাদের অবস্থা হয় ইরাকের মতো। যদিও ইরাক আমেরিকান ব্লগে ছিল, পরে ব্লগ ছাড়ার কারনে আজ এই অবস্থা হয়।
তারা ভাগ করার জন্য মুসলিমদের বেছে নিয়েছে কারন, মুসলিমদের মত একতা অন্য ধর্মে কমই আছে। মুসলিমদের অবস্থা ১০০ বছর আগে এমন ছিল না। বর্তমানে "Divide and rule" কারনে এমন অবস্থা হয়েছে।
-পুতিন যতই রথচাইল্ডদের রাশিয়া থেকে ব্যান করুক না কেন, এগুলা লোক দেখানো। কোন দেশের রাষ্ট্রপ্রধানই ইলুমিনাতিকে সেই দেশে স্বাদরে গ্রহন করে নেয় নাই। ইলুমিনাতি সেখানে কৌশলে ঢুকেছে। রাশিয়া ও এর বাহিরে না। আমার আপনার সোনার বাংলাও তার বাহিরে নয়।
OWO এর লক্ষ্য হলো পরো পৃথিবী শাসন করা।
এখন প্রতিটা দেশকে হয় আমেরিকা লিড করছে, অথবা রাশিয়া। আর এদেরকে কন্ট্রোল করছে ইলুমিনাতি, এটাই তো তারা চায়।
কিন্তু World war 3 এর পর তারা আলটিমেট গোল এচিভ করবে। তখন আর আমেরিকা, রাশিয়া কে লাগবে না। রথচাইল্ডরা সরাসরি সব কন্ট্রোল করবে।
সুতরাং এখানে ww3 এর লক্ষণগুলো হলোঃ
১/ আমেরিকার যেকোনো পাগলা প্রধানমন্ত্রী ক্ষমতায় আসা।
২/সামরিক খাতে বিশাল বিনিয়োগ।
৩/আমেরিকা-রাশিয়া ভালো সম্পর্ক।
৪/শিয়া-সুন্নি ভাগ করা।
-আপনাদের মতামত ভিন্ন হতে পারে। এটা আমার ব্যক্তিগত মতামত।
চলবে...
0 Comments