#বিশ্ব_দাজ্জালি_অর্থব্যবস্থা:— (#ক্রিপ্টো_কারেন্সি)
1)
১৯৩৩ সালে মার্কিন সরকার একটি আইন পাশ করে যাহার মূল কথাগুলি ছিল এইরকম:—
(১) জনগণের কাছে স্বর্ণমুদ্রা ও সোনার বার জমা রাখা যাইবে না।
(২) স্বর্ণকে বেচাকেনার মাধ্যম হিসেবে অর্থাৎ মুদ্রা হিসেবে আর ব্যবহার করা যাইবে না।
(৩) কারো কাছে নির্দিষ্ট তারিখের পরে
সোনা পাওয়া গেলে ১০,০০০ ডলার জরিমানা,
অনাদায়ে ৬ মাসের জেল।
(৪) স্বর্ণমুদ্রা বা সোনার বার ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে জমা দিয়া আউন্স প্রতি ২০ ডলার কাগজে ছাপানো মুদ্রা সংগ্রহ করা যাইবে।
🔴বেশীরভাগ আমেরিকান এই ফাঁদে পা দিয়ে সোনা জমা দিয়ে ডলার সংগ্রহ করে।
গুটিকয়েক ব্যতীত যারা বুঝতে পেয়েছিল তাদের সম্পদ লুটে নেওয়া হইতেছে তারা তাদের সোনা জমা দেয়নি,
বরং তাদের কাছে থাকা ডলার দিয়ে আরো স্বর্ণ কিনে সুইস ব্যাংকে জমা করে রাখে।
🔴 বৃটিশ সরকারও একই বছর একই রকম আইন করে। তবে আরো কৌশলী ভাবে। যেটা হলো তারা পাউন্ড স্টার্লিংয়ের মাধ্যমে সোনা কেনা নিষিদ্ধ করে।
🔴 সরকার জনগণের সোনা জমা নেয়া শেষ করার পরের বছর ১৯৩৪ সালে ৪১% হারে ডলারের মূল্যপতন ঘটায় এবং পূর্বের বছরের আইনটি বাতিল করে। জনগণ আবার ডলারের বিনিময়ে সোনা কিনিতে ভিড় জমায়। কিন্তু দেখতে পায় ডলারের দরপতনের ফলে এখন তাদের সোনা কিনতে হচ্ছে আউন্স প্রতি ২৫ ডলার করে। অথচ মাত্র ১ বছর আগেই এই স্বর্ণ মাত্র তারা ২০ ডলার আউন্সে বিক্রী করিয়াছিল।
🔴 এই প্রক্রিয়ায় জনগণের সম্পদের ৪১% চুরি করে নেয়া হয়।
পাঠক, এখন বুঝতে পারছেন কাগজের মুদ্রার দরপতনের মাধ্যমে কিভাবে ‘বৈধ’ভাবে জনগণের সম্পদ চুরি করা যায়।
ইহা হারাম।
“হে ঈমানদারগণ, তোমরা একে অপরের সম্পদ অন্যায়ভাবে গ্রাস করিও না।” (সূরা নিসা, ২৯)
প্রতারণার মাধ্যমে সকল লেনদেনকে মহানবী
সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লাম রিবা বলিয়া আখ্যায়িত করিয়াছেন।
🔴 ১৯৩৩-৩৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ঘটনা থেকে ইহাই প্রতীয়মান হয় যে, ওটা ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের একটি মহড়া ছিল মাত্র এটা দেখার জন্য যে কিভাবে একটা নতুন মুদ্রাব্যবস্থার মাধ্যমে ‘অপ্রস্তুত’ পৃথিবী হইতে বিপুল পরিমাণ সম্পদ নিজের কাছে সরিয়ে আনা যায়।
🔴 সম্পদ সরানোর এই কাজটি করা হয় মূল্যহীন কাগজকে মুদ্রা বানিয়ে (ডলার, পাউন্ড, টাকা) এবং সমগ্র মানবজাতিকে ইহা ব্যবহার করিতে বাধ্য করানোর মাধ্যমে।
🔴 মুদ্রাব্যবস্থা যারা নিয়ন্ত্রণ করে তারা এরপর নির্দিষ্ট কিছু দেশের মুদ্রাকে লক্ষ্য বানালো এবং ঐ মুদ্রাগুলির অবমূল্যায়ন ঘটাতে বাধ্য করলো। যখনই ঐ মুদ্রার মূল্য কমতে থাকলো তখনই ঐ দেশের (বিপদ সম্বন্ধে অজ্ঞ) জনগণ বিপুল সম্পদ হারাতে থাকল, আর তাদের এই সম্পদহানি অপরপক্ষকে দ্রুত বিপুল সম্পদের মালিক বানিয়ে ফেললো।
এভাবে কৃত্রিম উপায়ে সৃষ্ট বিশ্ব-বাণিজ্যের চরম মন্দাকে বলা হয় গ্রেট ডিপ্রেশন (Great Depression)|
2)
🔴 আল্লাহতায়ালা আল-রাজ্জাক।
তাহারই একমাত্র অধিকার ইহা নির্ধারণ করার যে বিশ্বব্যবস্থায় কোন মুদ্রা চলিবে। তিনি স্বর্ণ ও রৌপ্যকে দুনিয়া ও আখিরাতের জন্য দামি সাব্যস্ত করিয়াছেন। সুতরাং ইহারাই মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার হওয়ার যোগ্য।
🔴 ইসলামে মুদ্রা বলিতে বুঝায় সোনা বা রূপা এবং ব্যবহারযোগ্য দ্রব্য যা ভালো অবস্থায় থাকে
যেমন, গম, বার্লি, খেজুর, লবণ ইত্যাদি। তাই যখন মদীনার বাজারে সোনা বা রূপার অভাব দেখা দেয় তখন খেজুরের মতো দ্রব্যসামগ্রী যেগুলির প্রচুর সরবরাহ ছিল সেগুলি অর্থ হিসেবে ব্যবহৃত হইয়াছিল।
🔴 এইজন্যই চারটি নিকৃষ্টমানের খেজুরের বিনিময়ে দুইটি উৎকৃষ্ট মানের খেজুর লওয়া সুদ বলিয়া সাব্যস্ত হইবে। কিন্তু চারটি দুর্বল উটের সাথে দুইটি শক্তিশালী উটের অসম বিনিময় সুদ সাব্যস্ত হইবে না। কারণ মুদ্রা হওয়ার জন্য ইহা একটি বস্তু হইতে হইবে এবং সে বস্তুর নিজস্ব একটি মান ( intrinsic value) থাকিতে হইবে।
🔴 অর্থাৎ মুদ্রার মূল্য তাহার ভিতরে বিদ্যমান থাকিতে হইবে। বাহির হইতে আরোপ করা যাইবে না।
ইহাই আল্লাহর দুনিয়ায় আল্লাহর সার্বভৌমত্ব যাহাতে অন্য কারো অধিকার নাই। দুনিয়ার কেহ একটা কাগজে দশ লিখিয়া বলিতে পারে না ইহার মূল্য দশ। যিনি সকল ধন সম্পদের মালিক তিনিই ইহা করিতে পারেন।
🔴 আজকের যুগে যদি মুদ্রা হিসেবে খেজুর ব্যবহারের সেই নীতি প্রয়োগ করা হয়, তাহলে উদাহরণ হিসেবে বলা যায় যে, ইন্দোনেশিয়ার জাভা দ্বীপে যদি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার অভাব হয় তাহলে ‘চাল’-কে সেখানকার মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যাইতে পারে। অপরদিকে কিউবা দ্বীপে ‘চিনি’-কে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা যাইতে পারে।
3)
🔴ব্রিটেনে ১৯৪৪ সালে ইহুদী-খ্রীস্টান জোট কি করিয়াছিল? তাহারা সেখানে কাগজের মুদ্রাভিত্তিক আন্তর্জাতিক মুদ্রানীতি তৈয়ার করে। ইহাতে সোনাকে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার নিষিদ্ধ করিয়া একমাত্র ডলারকে সোনার বিপরীতে বৈধ মুদ্রা হিসেবে ঘোষনা করে। আপনি পঁয়ত্রিশ ডলারের বিনিময়ে এক আউন্স সোনার জন্য মার্কিন সরকারের কাছে আবেদন করিতে পারিবেন। অন্য কোন কাগজের মুদ্রা নিয়া দাঁড়াইলে হইবে না, কেবল মার্কিন ডলার।
কারণ পৃথিবীর বাকী অন্যসব দেশের কাগজের মুদ্রার (রূপি, রিংগিত, টাকা ইত্যাদি) কোনটিই সোনার সাথে বিনিময়যোগ্য নয়। তাহার মান নির্ধারিত হইবে মহামান্য ডলারের বিপরীতে। এইভাবে যায়নবাদীরা সকল সম্পদের মালিক আল্লাহর মনোনীত মুদ্রাকে হটাইয়া দিয়া নিজেদের কাল্পনিক ভোগাস মুদ্রাকে সারা পৃথিবীর ওপর চাপাইয়া দিয়া পৃথিবীর বাদশাহী লইয়া লয়। ইহাই হইল শিরকের উপর প্রতিষ্ঠিত মুদ্রানীতি। কিন্তু আজ পর্যন্ত মুফতি সাহেবগণ তাহা স্বীকার করেন না এবং দাঁড়াইয়া বলেন না যে, ইহা শিরক।
কেন?
একদিন তাহাদেরকে অবশ্যই এজন্য আল্লাহর কাছে জবাবদিহি করিতে হইবে।
🔴 ইহুদি-খ্রীস্টান জোটের অর্থব্যবস্থার সর্বশেষ ধাপ হইতেছে বিশ্বজুড়ে ইলেক্ট্রনিক মুদ্রার প্রবর্তন,
যা সম্পূর্ণরূপে বর্তমানে প্রচলিত কাগজি মুদ্রার জায়গা দখল করিয়া নিবে। অর্থব্যবস্থার এই পরিবর্তন ইতোমধ্যে শুরু হইয়া গেছে। আর এই উদ্দেশ্য সফল করিতে হইলে, যাহারা অর্থব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করে,
সেই বিশেষ গোষ্ঠীর জন্য আরেকটি কাজ করা বাকি রহিয়াছে, আর তাহা হইলো বিশ্বব্যাপী এমন একটি সমস্যা (যেমন, অর্থনীতিতে ধ্বস বা পরমাণু যুদ্ধ চাপানো ইত্যাদি, যাহাকে আমরা মালহামা বলিয়া মনে করি) সৃষ্টি করা যেন মার্কিন ডলারের মূল্যপতন ঘটে এবং তারই সাথে বিভিন্ন দেশের কাগজি মুদ্রাতেও ধ্বস নামে। ইহা এইজন্য যে সারা পৃথিবী যেন তাহাদের গোলামে পরিণত হইতে পারে।
ব্রেটন উডস্ কনফারেন্সের মাধ্যমে যে আন্তর্জাতিক মুদ্রাব্যবস্থার সূচনা হয় তাহা ইতোমধ্যে প্রায় পুরো মুসলিম বিশ্বসহ মানবজাতির বিশাল অংশকে শৃঙ্খলবদ্ধ করিয়া ফেলিয়াছে। এটা তাদেরকে চিরস্থায়ীভাবে গরিবে পরিণত করিয়াছে আর অনেককে নিঃস্ব করিয়া ফেলেছে। অবশ্য যখন ইলেক্ট্রনিক মুদ্রা কাগজি মুদ্রার স্থান নিয়ে নেবে তখন সেটাই হইবে অর্থনৈতিক দাসত্বের চূড়ান্ত পরিণতি।
4)
🔴 আজ যদি মুদ্রাব্যবস্থার স্বাভাবিক রীতি প্রচলিত থাকিত তাহলে আপনি সারা পৃথিবীর যেকোন স্থানে আপনার সম্পদ ব্যবহারের স্বাধীনতা পাইতেন।
কিন্তু বর্তমান ব্যবস্থায় ইহুদি-খ্রিস্টান শাসকগোষ্ঠী শুধু কাগজ ছাপিয়ে তাকে ‘মুদ্রা’ হিসাবে চালাইয়া দেয়, এরপর তার একটা কাল্পনিক মূল্য নির্ধারণ করিয়া দেয়, এবং এই প্রক্রিয়ায় তাদের খুশিমত সম্পদের মালিক হয়ে যায়। তাদের এই মুদ্রা দিয়ে তারা পৃথিবীর যে কোন অংশে যে কোন কিছু কিনিতে পারে। কিন্তু যখন মুসলিমরা তাদের (বায়ু হতে) সম্পদ বানানোর এই অনৈতিক কার্যকলাপকে গ্রহণ ও অনুসরণ করিবে, তখন এক স্যুটকেস ভর্তি ইন্দোনেশিয়ান রুপি বা পাকিস্তানি রুপি লইয়া গিয়া তারা ম্যানহ্যাটনে এক কাপ কফিও কিনিয়া খাইতে পারিবে না,
যতক্ষণ না ইহা নিয়া তাদের ডলারের সম্মুখে আত্মসমর্পণ করে।
🔴 ইসলামের পন্ডিতেরা কাগজি মুদ্রার বর্তমান ব্যবস্থাকে কখনই হারাম বলেন নি, এবং এটাও প্রতীয়মান হয় যে তারা ভবিষ্যতেও বলিবেন না। তারা, অবশ্যই সঠিক বিচার করিতে ভুল করিয়াছেন এবং তাদের এই ভয়াবহ ব্যর্থতার জন্য শেষ বিচারের দিনে প্রতিফল ভোগ করিতে হইবে (কারণ তারা অনেক মুসলিমকে বিপথে পরিচালিত করেছেন)। তারা মহান আল্লাহর সৃষ্ট মূল্যবান ধাতুকে মুদ্রা হিসেবে মেনে নেননি, যার স্বাভাবিক মান স্বয়ং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত এবং যার ভিত্তি দৃঢ়ভাবে কুরআন ও সুন্নাহ দ্বারা প্রতিষ্ঠিত।
5)
🔴 সোনা ও রূপার স্বাভাবিক মান স্বয়ং আল্লাহপাক কর্তৃক নির্ধারিত এবং যার ভিত্তি দৃঢ়ভাবে কুরআনে প্রতিষ্ঠিত। কুরআনে বিভিন্ন আয়াতে মহান আল্লাহ মুদ্রা বলতে ‘স্বর্ণ’ ও ‘রৌপ্য’ মুদ্রার উল্লেখ করিয়াছেন।
দিনার ছিল অন্তর্নিহিত মূল্যসম্পন্ন সোনার মুদ্রা।
আর দিরহাম ছিল রূপার মুদ্রা, বলা বাহুল্য সেটারও অন্তর্নিহিত মূল্য ছিল। উভয়েই আল্লাহর সৃষ্টি এবং তাদের মূল্যমান স্বয়ং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত, যিনি সকল ধন-সম্পদের মালিক।
🔴 কুরআন আরও প্রকাশ করে যে, সোনা ও রূপা মূল্যবান পদার্থরূপে পরকালেও তাদের মর্যাদা বহন করিবে। অন্যভাবে বলা যায়, পার্থিব জীবনে মূল্য বহনের পাশাপাশি সোনা ও রূপা পারলৌকিক বাস্তবতাতেও তাদের মূল্য ধরিয়া রাখবে। “তাদের আবরণ হইবে মসৃণ সবুজ রেশমি কাপড় যাহাতে স্বর্ণের কারুকাজ থাকিবে। এবং তাহারা রূপার কাঁকন পরিয়া থাকবে। পালনকর্তা তাদেরকে ‘শরাবান-তহুরা’
(পবিত্র পানীয়) পান করাইবেন।”
কুরআন, আল-ইনসান, ৭৬:২১।
স্বর্ণমুদ্রার (দিনারের) শেষ বিচারের দিনেও খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নির্ধারণ করা আছে। একটি সুদীর্ঘ হাদিসে অন্তরের বিশুদ্ধতার পরিমাপ একটি দিনারের সহিত করার উল্লেখ আছে, এবং সেটাই হবে দোযখের আগুন হইতে মানবকুলকে উদ্ধার করার পরিমাপ।
🔴 এই বিষয়ে একটি স্বতন্ত্র পোস্ট আছে, স্বর্ণ ও রৌপ্যমুদ্রার কুরআনিক ভিত্তি। http://bit.ly/2EHzhC0
সোনা এবং রূপা মহান আল্লাহ কর্তৃক যথেষ্ট মূল্য সহকারে সৃষ্ট হইয়াছে, এবং এই জাগতিক পৃথিবীতে এদের অন্তর্নিহিত মূল্য বজায় থাকার পর পরবর্তী জগতেও সেই মূল্য থাকবে।
মহান আল্লাহ, বিজ্ঞতার সাথে সোনা ও রূপাকে অন্যান্য জিনিসের সাথে অর্থ হিসেবে ব্যবহারের জন্য সৃষ্টি করিয়াছেন। এই পরিষ্কার সত্যটিকে যারা চ্যালেঞ্জ করেন, শেষ বিচারের দিন তাদেরকে তাদের এরূপ মনোভাবের কারণ আল্লাহর সামনে ব্যাখ্যা করিতে হইবে।
6)
আমরা কি করতে পারি?
🔴 যখনই কোন মুসলিম সমাজ ইহুদি-খ্রিস্টান মিত্রশক্তির অন্ধ অনুকরণ করতে গিয়ে আবিষ্কার করে যে তারা মহানবী (সাঃ)-এর একটি সুন্নাতকে পরিত্যাগ করেছে, তখন ঐরকম অনুকরণ হইতে মুখ ফিরিয়ে নেয়া এবং ঐ সুন্নাত পুনরায় পালন করা তাদের জন্য অবশ্য করণীয় হইয়া পড়ে। আর যদি ঐ সুন্নাতের ভিত্তি দৃঢ়ভাবে কুরআনের উপর প্রতিষ্ঠিত হইয়া থাকে তাহলে তাদেরকে অবশ্যই আল্লাহর কাছে এরকম অন্যায়ের জন্য তওবা করিতে হইবে এবং পরিত্যক্ত ঐ সুন্নাতকে পালন করার জন্য সংগ্রাম করিতে হইবে।
🔴 আপনি যদি মনে করেন, হ্যাঁ, আপনার কিছু করার আছে, কারণ যে ব্যক্তি নবীজী সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামের একটি মৃত সুন্নত জীবিত করিবে সে জান্নাতে নবীজীর সাথে থাকবে। আপনি যদি মনে করেন আল্লাহর দুনিয়ায় আল্লাহর আইনই চলবে তাহলে আপনার কিছু করার আছে। তবে এর জন্য প্রয়োজন দৃঢ় সংকল্প ও ত্যাগ স্বীকারের মানসিকতা।
যখন সোনা ও রূপার মুদ্রা বাজারে ‘বিনিময়ের মাধ্যম’ ও ‘মূল্যের পরিমাপক’ হিসাবে প্রবেশ করবে, তখন সুন্নাহ-ভিত্তিক মুদ্রা পুরোপুরিভাবে চালু হইবে।
এরকম মুদ্রা সাথে সাথেই কাগজি মুদ্রার প্রতারণাকে উন্মোচিত করিয়া দিবে। আমাদের ধারণা, যখন সোনা ও রূপাকে বৈধ লেন-দেনের মাধ্যম হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য আমরা সংগ্রাম করিব, তখন পৃথিবীর শাসনকারী ইহুদি-খ্রিস্টান মিত্রশক্তি, এবং মুসলিম দেশে তাদের দোসর, আর সর্বোপরি ব্যাংকিং মহল, সর্বশক্তি দিয়ে তা প্রতিহত করার চেষ্টা করিবে।
আমরাও আমাদের চেষ্টা করিব।
প্রথম ধাপঃ—
🔴 সোনা ও রূপার মুদ্রার মাধ্যমে মুসলিমরা তাদের ধর্মীয় কাজগুলি করিতে পারে, যেমন যাকাত প্রদান, বিয়ের মোহরানা আদায়, হজ্জের ব্যয় বহন করা ইত্যাদি।
সাধারণ মানুষকে দ্রুত উদ্বুদ্ধ করা উচিত যেন তারা একটি প্রশ্নই করে: “কেন মুদ্রা হিসেবে স্বর্ণমুদ্রার ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হইয়াছে?”।
সম্ভবত পৃথিবীর কোন সরকারই এটার উত্তর দিতে পারবে না, কারণ এ প্রশ্নের উদ্ভব যার কারণে হইয়াছে সেইই আই-এম-এফ নিজেই এর কোন উত্তর দিতে পারে নাই।
🔴 মহানবী (সাঃ) নিজে বিভিন্ন শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছিলেন যা আমাদের এটাই শেখায় যে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে সংগ্রামের প্রথম ধাপ হলো জনসাধারণকে এ বিষয়ে শিক্ষাদান করা ও সচেতন করে তোলা।
তারপরও মুদ্রাব্যবস্থায় কাগজি মুদ্রার প্রতারণামূলক বৈশিষ্ট্য অনেক মুসলমানই বিশ্বাস করিতে পারিবেন না, যতক্ষণ পর্যন্ত স্বয়ং উলামারা (ইসলামের পন্ডিতরা) এসব বুঝিতে না পারিয়া এরকম মুদ্রাকে বৈধ বলতে থাকবেন।
🔴 এসকল মুসলমানের জন্য সেই হাদিসটি সহায়ক হইতে পারে যেখানে মহানবী (সাঃ) এমন যুগ সম্বন্ধে সতর্ক করিয়াছেন যখন উলামারা এমন পরিমাণে ইসলামের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করিবে যে তারাই হইবে ‘আকাশের নিচে সবচেয়ে খারাপ মানুষ’, এবং নাম ব্যতীত ইসলামের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
“খুব শীঘ্রই এমন সময় আসবে যখন নাম ছাড়া ইসলামের কিছুই অবশিষ্ট থাকিবে না, এবং লেখার ছাপ ছাড়া কুরআনের আর কিছুই থাকবে না। (সে সময়) তাদের মসজিদ হবে সুরম্য ইমারত, কিন্তু তা পথ-প্রদর্শন করবে না। এবং (সে সময়) ‘উলামা’-রা হইবে আকাশের নিচে সবচেয়ে নিকৃষ্ট ব্যক্তি। তাদের মধ্য হতে ফিতনার উদ্ভব ঘটিবে, আর তাদের মধ্যেই তা ফিরিয়া যাইবে।” সুনান তিরমিযী।
দ্বিতীয় ধাপঃ—
🔴 সংগ্রামের পরবর্তী ধাপ হইলো প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলে কাগজি মুদ্রা বা ইলেক্ট্রনিক মুদ্রাকে পরিহার করা। উদাহরণস্বরূপ, প্রত্যন্ত গ্রামের ধান চাষীদের উদ্বুদ্ধ করা যাইতে পারে যেন তারা চালের বিনিময়ে দিনার বা স্বর্ণমুদ্রায় অর্থের দাবী করে। এক্ষেত্রে যদি ক্রেতারা দিনার দিয়ে কিনতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে চাল বিক্রেতারা চাল-কেই বিনিময়ের মাধ্যম অর্থাৎ মুদ্রা হিসাবে ব্যবহার করতে পারে। চাল-কে মুদ্রা হিসেবে ব্যবহার করা অবশ্যই একটি সাময়িক ব্যবস্থা আর এটা কেবল অল্প পণ্য বা ছোট-খাট ক্রয়ের কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে। এভাবে, ক্ষুদ্র পর্যায়ের লেন-দেনে হলেও কাগজি মুদ্রা ও ইলেক্ট্রনিক মুদ্রাকে সরিয়ে সুন্নাহ-ভিত্তিক মুদ্রা তার জায়গা করে নিতে পারে।
🔴 এটা বলতেই হয় যে, যতদিন ইয়াজুজ ও মাজুজের বিশ্ব-ব্যবস্থা পৃথিবীকে শাসন করিতেছে, ততদিন বিশ্বের শহরগুলি ইলেক্ট্রনিক মুদ্রার ফাঁদে আটকা পড়িয়া থাকবে।
তবে মহানবী (সাঃ) এর ভবিষ্যতবাণী পরিপূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত সুন্নাহ-ভিত্তিক মুদ্রা প্রত্যন্ত গ্রাম হতে শহরের দিকে অগ্রসর হইতে পারে:—
🔴 আবু বকর ইবন আবি মরিয়ম হতে বর্ণিত যে,
তিনি আল্লাহর নবী হযরত মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু য়ালাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনিয়াছেন,
“মানবজাতির উপর এমন সময় অবশ্যই এগিয়ে আসিতেছে যখন ব্যবহার করার (বা উপকারে আসার) মত আর কিছুই থাকবে না। তাই (তোমরা) দিনার (স্বর্ণমুদ্রা) ও দিরহাম (রৌপ্যমুদ্রা) সঞ্চয় করিয়া রাখ।”
(মুসনাদ আহমাদ।)
The End.
0 Comments